Poem

অন্ধকার ঠেলে তুমি শুতে যাও, অন্ধকারে জাগো
অন্ধকারে রুটি গড়ো, অন্ধকারে মেয়ের বিনুনি
চারের বি বাস আর অফিসের সিঁড়ি, অন্ধকারে
অথচ আলোর তেষ্টা কোনওদিন ছাড়েনি তোমাকে।

একদিন, একেবারে আন্‌মনা, বলে ফেলেছিলে
আপনাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে, এই ভাবে আরও
কত কী দেখার ইচ্ছে তোমাকে মধ্য রাতে ডাক দেয়
সূর্যাস্তের রঙ, নদী, বৃষ্টিভেজা মাঠ, রোদমাখা বিশাল শিরীষ

আজকাল যা যাদেখি শিবানীর হয়ে তার দু'একটি
বর্ণ মনে রাখি, সকালের মতো করো, আঁধারের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে
কিন্তু তার ভাষা ওকে কীভাবে পড়াব?
ব্রেল ব্রেল ব্রেল ব্রেল
লক্ষ লক্ষ সূচীমুখে, সেও তো আমরাই লিখব, চক্ষুষ্মানেরা
না হলে ফুরিয়ে যাবে শিবানীর বর্ণের ভাঁড়ার

যদি ছবি আঁকি তার ব্রেল হয়? যদি কেউ চিঠি লেখে
ভালোবেসে, তার ব্রেল?

কুৎসিত টেলি সিরিয়াল তোমার দেখার দায় নেই
রাস্তায় উদ্‌ভ্রান্ত লাশ,মিনিতে মানুষে অ্যাকসিডেন্ট
ক্ষমতার লাল চোখ, ক্রূর ভুরু, আঙুল মটকে শাপ দেওয়া
অন্ধকারে ঢেকে থাকে যুদ্ধ শিবিরের জ্বলা নেভা।

তোমার করোটি লগ্ন অন্ধকার নিস্তরঙ্গ, স্থির।

আমাকে রাস্তার মধ্যে ছাড়বে না, হাত ধরে থাকো।
জ্যৈষ্ঠের জ্বলন্ত হাজরা রোড, ওপারে হলের মধ্যে
প্রত্যেক মঙ্গলবার ব্রেল হয়, দশ থেকে এক, এমবস,

শিবানী আমাকে তুই অক্ষর বানাতে নিয়ে চল,
হতভাগা চক্ষুষ্মান কে, রোদ-ধুলো-ডিজেল ধোঁওয়ায়
যার অন্তরাত্মা ধুলিম্লান; মেঠো কবিতার মতো
অন্ধকারে এই হাঁটা, তোমার জন্য আমি ব্রেলে অনন্ত করে রাখি।





[শ্রেষ্ঠ কবিতা কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত]