
১
আয়না মাতৃসমা কী দেখেছ হৃদয়ে আমার
কেন চেয়ে থাক মুখে, সাদা প্রতিবিম্বহীনা
তোমার পারদ কবে খসে পড়ে গেছে
তুমি কি জান না, আর কিছুই ধরে না ওই বুকে।
হেমন্তের মাঠে রাতে ফুটে আছে সার্কাসের তাঁবু
সারি সারি শীর্ণ গ্রাম হাত পাতে গোবর রাঙানো
মজা পুষ্করিণী খোলে শীত জমা বাউটির খিল
নিখিল উঠেছে জেগে রিং-মাস্টারের যুদ্ধ গানে
নিজের ছায়ার মুখোমুখি
সারাদিন দীর্ঘ অনভ্যাস, শ্রান্তির
এত শান্ত বাড়ি যে পায়রারা
কুটো নিয়ে এখানে ওখানে
সেই মেয়েটি হারিয়ে গেছে সিঁথির মোড়ে
সূর্য-ডোবা দেখতে গিয়ে। সেই মেয়েটি
ক্রন্দসী-তীর ছাড়িয়ে গেছে মেঘান্তরে।
ঘাসের ঘুঙুর লোটায় পায়ের। রুপোর কাঠি
শিয়র বাগে। কে আর তাকে মধ্যরাতে
জাগায়, সে তো ছাপিয়ে গেছে এই সময়ের
দ্বন্দ্ব-দোলন। বনের দু'হাত জ্যোৎস্না-পাতে
পিছল, তাকে ডাকতে পিছু শঙ্কা পথের।
সুন্দর, তুমি এরকমই থেকো, বদলে যেওনা
সুন্দর, যদি নগর মাড়িয়ে সাঁজোয়া বাহিনী যায়
পথেই স্ফুরিত রক্তের দাগে মিশে যায় রাঙাধুলি
যদি নদীখাত জ্বলে যায় অনাবৃষ্টিতে, যদি
অসময়ে ত্যাগ করে চলে যায় আমাকে, আমারই ছায়া।
স্তব্ধতার গর্ভজলঃ এখানে কবিতা বেড়ে ওঠে
এখানে দেয়ালা করে, অকালে ঘুমিয়ে যায় রোজ
একদিন জরায়ুর চেয়ে বড় হয়ে, রৌদ্র হয়ে গেলে
ধুলোমাখা পথ আসে কবিতার নাড়ি কেটে দিতে
অন্ধকার ঠেলে তুমি শুতে যাও, অন্ধকারে জাগো
অন্ধকারে রুটি গড়ো, অন্ধকারে মেয়ের বিনুনি
চারের বি বাস আর অফিসের সিঁড়ি, অন্ধকারে
অথচ আলোর তেষ্টা কোনওদিন ছাড়েনি তোমাকে।
হাসো, হেসে বলো তুমি দেবী নও,তুমি এক সামান্যা মানবী
এই জন্মের মতো চুকে যাক পলে পলে দাহ, আকিঞ্চন!
বলো, তুমি স্বপ্ন নও, মর্মর, মৎস্যনারী, ইম্পাহানি মায়া।
চাঁদের কেয়ূর পরা নও তুমি কুন্দশুভ্র রাত।
আরম্ভেই বলে রাখি, এই গল্প পুরোটা আমার লেখা নয়। যেহেতু গল্পের মানুষটাকে আমি খবরের কাগজ থেকেই পেয়েছিলাম, আর খবরের ছাঁদেই লেখা তার জীবনের গল্প আমি পড়ি, তাই একজন সংবাদনির্মাতাও এই লেখার অংশীদার।
আমাদের জনারণ্য আজ
একটি জোনাক-জ্বলা গাছ
জ্বলা ও নেভার ছন্দে পথ
কাঁপে, কলরোলে অট্টালিকাগুলি
দুলে ওঠে, আজ আমাদের ভয় নেই
বিকেলের ঘাসমাঠে রোদ পা মুছে মিলিয়ে যায়
সূর্যাস্তের আগে আমার পৌঁছনোর কথা ছিল
নিজের গ্রামে
তখনই চিন্তার মধ্যে সেগুন মঞ্জরী ঝরে পড়ে
মনে পড়ে যায় কোন গ্রাম নেই আমার
অজস্র শিশির মেখে পড়ে আছে হেমন্তযামিনী
শিশির না সিন্দুর আলতা বিয়ের কালের নাকছাবি
মৃত্যুর সান্নিধ্যে এসে থেমে গেছে বহু বাসনার আকুলতা
সেই সন্তানের জন্য পিছুটান বুকে দুধ আসা
টাইমের ভাত দিতে দেরী হলে জিভে উঠে আসা রক্তস্বাদ
দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাসে হ্যারড-ডমার গ্রোথ মডেলের সূক্ষ্ম সালোকসংশ্লেষ আর মিহির রক্ষিত মহাশয়ের ডায়নামিক ইকুইলিব্রিয়ামের উন্মাদনার বিভাজনরেখা বরাবর, হঠাৎ, বর্শার মতো এসে গেঁথে গিয়েছিল একটি বই। তখনও প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের রিডিং রুমে হাতে হাতে ঘোরে— 'সাতটি তারার তিমির', 'বিপন্ন বিস্ময়' আর 'কোয়েলের কাছে'; পাশাপাশি। কেবল কবিতাই লিখি তখন, এবং অবসরে মুক্ত গদ্য, নিয়মিত গল্প লেখার আরও কয়েক বছর বাকি।