Poem
জোনাকি

আমাদের জনারণ্য আজ
একটি জোনাক-জ্বলা গাছ
জ্বলা ও নেভার ছন্দে পথ
কাঁপে, কলরোলে অট্টালিকাগুলি
দুলে ওঠে, আজ আমাদের ভয় নেই
পথের দুপাশে বাতি জ্বলে
নির্মম নির্জনতা নেই, মানুষের
হৃদয়ের গানে
মুখর আঁধার খিন্ন পথ।

শুধু সেই নিহত মেয়েটি
শতচ্ছিন্ন শাড়িটি জড়িয়ে
দাঁড়িয়ে রয়েছে একধারে; আমাদের
গান ও কবিতা
ফেরাবে কি তাকেও জীবনে?

মনোহীন

সেই যে রয়ে গেল জলের ঢেউ হয়ে
আলোর হারপুন বিঁধল তার পিঠ
তবু তো কথা নেই, ছলাৎছল গানে
তীরের কাছে আসে, জাগাতে বেলাভূম

বোলোনা মনোহীন, মনের ভাষা তার
জলের লিপি হয়ে রয়েছে অগোচর
কী যেন রয়ে গেল, কত যে সুনিপুণ
ছলনা বাকজাল, চিন্তনেরও অতীত
তাই সে খেলা ছেড়ে প্রগাঢ় অভিমানে
রৌদ্রে হয়ে গেল একটি একা গাছ

বাষ্প হয়ে শেষে বৃক্ষ মেঘ হ’ল
নিজেই নেমে এল ঝমাৎ ঝম জল
অচেনা মেয়েটিকে ভেজাতে, ঈর্ষায়
কত যে জাদু তার, বৃষ্টি উৎসব
যেই সে জল হ’ল, বাতাস এসে তার
দোলায় অবয়ব, উল্কি আঁকে রোদ
সে বোঝে এ-জীবনে মাটি তো আর নয়,
শিকড় নেই, আছে প্রবাহ-পরাভব!

নোটবন্দি

পা-মেশিনের ঘর ঘর শব্দে ফিরে আসে
পেটভরে না-খেতে-পাওয়ার আধো-অন্ধকার
স্মৃতি ছিটকাপড় ছুঁচের নিচে শুয়ে পড়ছে
অবোলা নারীর মতো আর বেরিয়ে আসছে
এফোঁড় ওফোঁড়, তালি দেওয়া, সর্বস্বান্ত
আঙুলের ফাটার ওপর ফ্যাকাসে লাল
হাজার উপর পেতলের হাঁসমুখো আংটি
মেশিনের পায়ে পাড় দিচ্ছে কষ্টের ওপর
দিয়ে জিন্দেগিভর হেঁটে যাওয়া পা, পয়সা
বাকি রয়ে যাচ্ছে, বাকিতে কাজ করতে করতে
মজুরের মুখে রক্ত, শব্দের গলির মধ্যে একচিলতে
বেগুনি রং আলো, শালবনীর টাঁকশালে
মেশিনেরা টাকা ছাপছে, অচ্ছে দিন অচ্ছে দিন
অচ্ছে দিন... চলতে চলতে যন্ত্রেরও বুক
ভেঙে রক্ত উঠে আসে, তাজা রক্ত, বিস্ময়ের মতো...